সেবামূলক সংগঠনের নামের তালিকা

সেবামূলক সংগঠনের নামের তালিকা

এমন কিছু সংগঠন রয়েছে যারা সব সময় মানুষের কথা ভাবে। এসব সংগঠনগুলো বিনামূল্যে সেবামূলক কাজ করে থাকে। এদের মূল লক্ষ্য হলো মানব সেবা। বাংলাদেশে এমন সংগঠনের সংখ্যা কম নয়। এই সংগঠনগুলো মূলত পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করে। এই সমাজে যেসব মানুষ অবহেলিত , সেই মানুষগুলোর অধিকার আদায়ের চেষ্টা করে এ সংগঠনগুলো। এছাড়াও অর্থকষ্টে ভুগে যেসব পরিবার নিজেদের চাহিদা ঠিক মতো পূরণ করতে পারে না তাদের পাশে দাঁড়ানো এ সংগঠনগুলোর মূল কাজ।

আজ আমরা এমন কিছু সংগঠন নিয়ে কথা বলবো যারা সারাদেশে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে চলেছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, আমরা আন্তর্জাতিক এমন কিছু সংগঠনের নাম বলব যারা দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করে চলেছে। আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেবে যেগুলো এর আগে কখনোই আপনার অন্য কোথাও দেখতে পাননি। এ তথ্যগুলি জেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরী কারণ এ পৃথিবীতে এখনো যে এমন কিছু সংগঠন রয়েছে যারা সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে, তা জানতে পারবো খুব সহজে। চলুন দেখে আসি কোন সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠা শুরু থেকেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে।

২০১৯ সালে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস যার নাম কোভিড নাইনটিন। এ ভাইরাসটি এমনভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল যে এমন কোন দেশ নেই যেখানকার কোভিড ১৯-এ সংক্রমিত হয়নি। বর্তমান সময়ের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমেও কভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। করো না ভাইরাসে আক্রান্ত এসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। চিকিৎসা ছাড়াও করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা ছিল চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।

এ কাজে যেমন পেশাদার ডাক্তার ও নার্সরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার পাশাপাশি কাজ করে গেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন।। এ সংগঠনগুলো মূলত কোভিড 19 আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় এবং কোভিড 19 মৃতদের সৎকারের কাজে বড় ভূমিকা পালন করেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজগুলো করতে হয়েছে সেবামূলক সংগঠনগুলোর সদস্যদের। আপনারা জানেন কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে। এতকিছু জেনেও সংগঠনগুলো কাজ করে গেছে শুধুমাত্র মানুষের কথা ভেবে।

 

করোনা ভাইরাস ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করে। সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের নাম আপনারা শুনে থাকবেন। সোয়াইন ফ্লু এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বড় এলাকার মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করে অনেক সেবামূলক সংগঠনের সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে সাধারণত রোগ প্রতিরোধক ইনজেকশন পুশ করা, রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, রোগীদের ঠিক সময় খাবার পরিবেশন করার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে হয় সেবামূলক সংগঠনের সদস্যদের। এ কাজগুলো করতে গেলে নানা রকম বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়।

সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়েই শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে থাকে। এমন অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন রয়েছে যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে সেবা প্রদান করে। আফ্রিকা মহাদেশে অনেক গরিব দেশ রয়েছে যেখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আফ্রিকা মহাদেশের এই দেশগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব একটা উন্নত নয়। অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন এ অঞ্চলগুলোতে কাজ করে চলেছে। চলুন দেখে আসি কোন ধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো এই কঠিন কাজগুলো দেখাশোনা করছে।

ডব্লিউ এইচ ও অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এই সংগঠন টির নাম আপনারা শুনে থাকবেন। এ সংগঠনটি একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। ওয়ার্ল্ড হেলথ organization পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষদের বিভিন্ন রোগ সম্বন্ধে তথ্য দেয় এবং এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। নতুন কোন রোগ সম্বন্ধে জানতে পারলে এই বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া তাদের কাজের মধ্যে পড়ে।

আমাদের বাংলাদেশের মতো অনেক দেশ রয়েছে যেখানে একসময় স্বাস্থ্যসেবার মান খুব একটা ভালো ছিল না। বাংলাদেশেও একসময় ছোটখাটো অনেক রোগে মানুষ মৃত্যুবরণ করত। মা ও শিশু মৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। বাংলাদেশে এখন মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে। এছাড়াও একটি শিশুকে কিভাবে বড় করে তুলতে হবে এ বিষয়ে সবাই এখন সচেতন হয়েছে। যক্ষা রোগ হলে এক সময় আমাদের দেশের মানুষ অনেক ভয় পেয়ে যেত। এখন যক্ষা রোগ থেকে খুব সহজেই মুক্তি লাভ করা যায়।

এই কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনের সহযোগিতার জন্যই। এ সংগঠনগুলো মূলত আমাদের দেশের প্রতিটি অঞ্চলে কাজ করেছে। তারা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে। যেকোনো রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সেই বিষয়ে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এই সংগঠনগুলো। আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠন গুলো কিভাবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সাধারণত বাংলাদেশের স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাথে মিলিত হয়ে এ কাজগুলো করে থাকে।

বাংলাদেশের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের নাম আপনার নিশ্চয় শুনেছেন। ব্র্যাক এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু কিশোরীদের নিয়ে কাজ করে থাকে। যেমন বয়সন্ধিকালে একজন কিশোরীকে কিভাবে সচেতন করা যায়, এ সময়গুলো তে অভিভাবকের কি করনীয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা, নারী শিক্ষার অগ্রগতি এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমাদের দেশে আরো কিছু সেবামূলক সংগঠন রয়েছে যারা শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করে। যেমন বিদ্যানন্দ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। পথ শিশুদের নিয়ে অনেক সেবামূলক সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। পথ শিশুরা সাধারণত কোন স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায় না। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার মতো সামর্থ্য এদের নেই। তাই পথ শিশুদের কথা ভেবে সেবামূলক সংগঠনগুলো বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পথ শিশুদের অনেক স্কুল রয়েছে যাদের সুবিধামতো সময়ে পড়ানো হয়।

এছাড়াও এক টাকার দুপুরের খাবার, শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে থাকে এ সংগঠনগুলো। এ কাজগুলোকে করা কেন জরুরী? প্রথমত শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা গ্রহণের অধিকার সকলের রয়েছে। এদেশের নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর মানুষ যদি শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারে তবে এর দায় আমাদের নিতে হবে। বাংলাদেশকে যদি শতভাগ শিক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চাই তাহলে সেইসব মানুষদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হবে যারা সামর্থ্যের অভাবে স্কুলে যেতে পারে না। বাংলাদেশকে যদি আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই তাহলে বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে হবে। পিছিয়ে থাকা মানুষদের সামনে এগিয়ে আনার সুযোগ করে দিতে হবে। আর এ কাজগুলো করতে হবে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষগুলোকে।

আপনারা যদি ব্যক্তিগতভাবে কোন সেবামূলক সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে চান তবে এটি হবে সবচেয়ে ভালো একটি সিদ্ধান্ত। অনেকেই আছে যারা সেবামূলক সংগঠনগুলোর সাথে জড়িত হবার চেষ্টা করলেও শুধুমাত্র আশেপাশে কোন সেবামূলক সংগঠন না থাকাই যুক্ত হতে পারছেন না। ব্যক্তিগতভাবে আপনারাও নিজেদের এলাকায় একটি সেবামূলক সংগঠন করে তুলতে পারেন। এ কাজটি করতে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাহায্য নিতে পারেন।

এমন সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নিলে সকলেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। বড় বড় যেসব সেবামূলক সংগঠন রয়েছে তাদের অংশ হিসেবেও কাজ করা যাবে। সেবামূলক এই সংগঠনগুলোর নামের তালিকা ও ফোন নাম্বার পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।। আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা তথ্যগুলো আপনাদের জন্য যুক্ত করতে পারব।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *